প্রতিদিনের ব্যস্ততার মধ্যেও যারা করে নিয়েছেন আমার লেখনী পড়বার জন্য কিছুটা সময় ... তাদের এবং আর সবাইকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ...
আপনার মন্তব্য কামনা রইল ...
এবং তাকে আন্তরিক স্বাগত জানাই ...
-- দীপঙ্কর সরকার
ই. মেল. ঠিকানা: mr.dnsarkar@gmail.com
___________________________
ছায়াবৃতা
পরাধীনতার অবসান হয়েছে... বিদেশী প্রভুত্ব খতম হয়েছে অনেকগুলি দশক , কিন্তু খতম হয়নি আভিজাত্যের মিথ্যা অভিমান। আজও রয়েছে জাত-ভেদ, আজ পর্যন্তও নারী-স্বাধীনতা স্বীকার করতে নারাজ আমাদের দেশের সব সমাজ। মজ্জ্বায় মজ্জ্বায় জড়িত কু-শিক্ষা, কু-প্রথা। হায়রে তার পরিণাম মেয়েরাও প্রায় বিনা প্রতিবাদে স্বীকার করে নিচ্ছে আজও এই ঘুণধরা সমাজের অন্যায় অবিচারের কু-প্রথা। দুর্ভাগ্যের কথা, শুধু মাত্র স্বীকার করা নয়, এ সমাজের মেয়েদেরই এক বড় সংখ্যা প্রত্যক্ষ অপ্রত্যক্ষ ভাবে অংশীদারি নারী-স্বাধীনতা হরন এবং নারী-পীড়ন-এর।
স্বামী, শ্বশুরের কর্তৃত্ব তো রয়েছেই আর তার জুটি শাশুড়ী-ননদের যাতনা অর্থাত্ গোদের ওপর বিষফোঁট আরকি। আজও মাছের বড় টুকরোটা পায়না বাড়ির মেয়েটা, পরে ছেলের থালিতে... আর সেটা আসে মা-এর হাত থেকে। ... স্নেহময়ী মা। হায়রে ছায়াবৃতা নারী, মাতৃস্নেহে-ও পক্ষপাতিত্বতা, বৈষম্যমূলতা ... যুগ-যুগের কু-শিক্ষা আর বিকৃত সংস্কৃতির ফল বিশেষ।
নারী-পুরুষের আইন গত সম-অধিকার অবশ্যই বর্তমান, কিন্তু ঘুণধরা সমাজের অন্ধতাপূর্ণ আদিম দৃষ্টিভঙ্গী আদালতের কানুন দ্বারা পরিবর্তন করা বাস্তবিকপক্ষে প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। কুসংস্কারাচ্ছন্ন মধ্যযুগ আজও এই একবিংশ-শতাব্দীতে আমাদের দেশে প্রতি নিয়ত উপস্থিত... এ কথা অবিবাদীয়।
যতদিন সামাজিক বিপ্লব দেশের প্রতিটি কোনে, ঘরে-ঘরে সমাজের প্রতিটি স্তরে জাতি-ধর্ম, পেশা এবং স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষে নূতন, উন্মুক্ত, উদার চিন্তাধারা পৌঁছে না দিয়েছে তথাবধি সামাজিক স্বাধীনতা স্বপ্নাতীত।
পৃথিবীর অনেক দেশে পুরুষ-প্রাধান্য অবলুপ্ত হয়ে নারী-পুরুষের সামাজিক সমানাধিকার স্বাভাবিকতার স্তর স্পর্শিত করেছে ... আমাদের দেশের সব মেয়েরা কি এই সামাজিক সমানাধিকার, সামাজিক স্বাধীনতার অযোগ্য?
লোকদেখানো প্রগতিশীলতার অভিনয় করাটা এক ফ্যাশনের সামিল, ওষ্ঠে প্রগতির বুলি ... কিন্তু সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলেছে। এই লজ্জার কথা অস্বীকার করবার উপায় নেই।
... এ সব কিছু শুধুমাত্র সরকারী রাজনীতি-মূলক প্রশ্ন নয়, এটা মূলতঃ সামাজিক প্রশ্ন। কেবলমাত্র সরকারকে দোষারোপ করে, সমাজের অপকর্মে আপন ভূমিকাকে অস্বীকার করে সামাজিক অবিচার, অনাচার-এর দায়িত্ব থেকে মুক্ত হবার প্রচেষ্টাটা খুবই সহজ... সামাজিক উন্নতির কণ্ঠরোধ এখানেই।