প্রসূন...
কলকাতা থেকে জার্মানীতে ফিরেছি ক'টা দিন আগে। মেয়ে নাটাশা আর তার বন্ধু রথিন-কে দেখেছ তুমি ... তোমার কথা বলতে ওরা উচ্ছ্বসিত। আরে না, না আমি ওদেরকে বিন্দুমাত্র প্রভাবিত করিনি। লোক দেখানো আভিজাত্য তোমার নেই ... তোমার অকৃত্রিম আন্তরিকতা, সাহজিকতা ওদেরকে মুগ্ধ করেছে।
জানোই-তো দেশে মধ্য-সম্প্রদায়ে পরিবারে পরিবারে চলছে এখন কৃত্রিম আভিজাত্যের রঙ্গমঞ্চ-প্রদর্শন প্রতিযোগিতা। একটুকু সুযোগ মিললেই হ'ল আর কি,... সুরু হয় তখন এদের সু-নিপুন রঙ্গ; হ্যাঁ ঠিক কথা, কৃপণতা নেই এদের ন্যাকামির পরিবেশনে। সে তো অন্নপূর্ণার ভাণ্ডার, ডালিটা যে সব সময়েই ভরা থাকে কৃত্রিমতায়। সার্থকতার আপন গুনগানের ফুলঝুরি অনির্বাণ।
বিত্তবান্ ধনীশ্রেনীর কথা না হয় ছেড়েই দিলাম, মধ্যসম্প্রদায়ের এই অংশ করে ধনতন্ত্রের তাঁবেদারি... তথাকথিত সভ্যতা-সংস্কৃতির বড়াই করতে শতমুখ কিন্তু জড়তা আসে এসব সাহেব-সাহেবাদের সাধারণ আর খেটে খাওয়া নিম্ন-পারিশ্রমিকের মানুষদেরকে একটুকু মর্যাদা দিতে, এদের দম্ভের প্রাসাদ ভেঙ্গে পরে এতে।
কি সে সভ্যতা যেখানে সমাজের এক বৃহত্ অংশকে ছোট করে দেখা হয়, আজও আখ্যা দেওয়া হয় "ছোট-লোক", তুই-তোকারী ছেড়ে ওদেরকে আপনি বলে কথা বলতে পাষাণসম হ'য়ে ওঠে সাহেব-বিবীদের জিহ্বা, মানবিকতার নেই এক ফুটো-পয়সা মূল্য!
মাঝে-সাঝে আমাদের ভারতে যাওয়া হয়, সবাইকার সাথে দেখা করার ইচ্ছেটা অপরিপূর্ণই থাকে প্রতিবার।
কলকাতা যাওয়ার আকর্ষণ তো রয়েছে কিন্তু ব্যাপারটা আমার কাছে কিছুটা মর্মান্তিকও বটে। ওই শহরে আসবার জন্যে ধর্-ফর করে এখনও মনটা আমার ... আর সেথায় পৌঁছুবার পর অবস্থা হয় আপন ভিটে-বাড়ি থেকে উত্খাত হওয়া উদ্বাস্তু সামিল।... কারনটা তো তোমাকে প্রথমেই লিখেছি। ... তবুও আবার আসবো, আসবো যেখানে বাঁচবার জন্যে লড়াই আর প্রাণের স্পন্দন অহরহ উপস্থিত...
শুভেচ্ছান্তে
প্রবাসী